যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) ইতিহাসে সবচেয়ে কুখ্যাত ‘ডাবল এজেন্ট’ অলড্রিখ এইমস মারা গেছেন।  সোমবার (২৯ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের কম্বারল্যান্ডে অবস্থিত ফেডারেল কারেকশনাল ইনস্টিটিউশনে ৮৪ বছর বয়সি সিআইএর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।  আজীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এইমসের সাজায় প্যারোলে মুক্তির কোনো সুযোগ ছিল না। সিআইএর জন্য কাজ করলেও তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় নয় বছরের বেশি সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে গোপন তথ্য বিক্রি করেন।  যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা দ্বৈত গুপ্তচরদের একজন হিসেবে পরিচিত এইমসের কর্মকাণ্ডে একশটিরও বেশি গোপন অভিযান ব্যাহত হয়।  তার ফাঁস করা তথ্যের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করা ৩০ জনের বেশি এজেন্টের পরিচয় প্রকাশ পায় এবং অন্তত ১০ জন সিআইএ কর্মকর্তা প্রাণ হারান।অলড্রিখ এইমসের সিআইএ জীবনের শুরু ১৯৬২ সালে। কলেজের পড়াশোনা শেষ না করেই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।  তার বাবা নিজেও সিআইএর একজন বিশ্লেষক ছিলেন।  বাবার সূত্র ধরেই তিনি সিআইএতে যোগ দেন এবং টানা প্রায় ৩১ বছর সেখানে কাজ করেন।  কেজিবির কাছে তার সাংকেতিক নাম ছিল ‘কোলোকল’—ইংরেজিতে যার অর্থ ‘দ্য বেল’।  এই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে কর্মরত প্রায় সব সিআইএ গুপ্তচরের পরিচয় তিনি ফাঁস করে দেন।  এর ফলেই ১৯৮৫ সালে হঠাৎ করে একের পর এক সোভিয়েত এজেন্ট নিখোঁজ হতে শুরু করেন।  কেজিবি তাদের ধরে নিয়ে যায় এবং অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।১৯৯৪ সালের ২৮ এপ্রিল আদালত এইমসকে আজীবন কারাদণ্ড দেন।  বিচারের সময় তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরবর্তীতে রাশিয়ার কাছে গোপন তথ্য বিক্রির কথা স্বীকার করেন।  আদালতে পড়া আট পাতার বিবৃতিতে এইমস জানান, ঋণ পরিশোধের তাগিদ থেকেই তিনি অর্থের বিনিময়ে বিশ্বাসঘাতকতার পথ বেছে নিয়েছিলেন।  তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালের এপ্রিল থেকে তিনি কেজিবিকে সিআইএর গুপ্তচরদের নাম দিতে শুরু করেন এবং প্রথম দফায় ৫০ হাজার ডলার পান।এইমস আদালতকে আরও জানান, কেজিবি তার দেওয়া তথ্যের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তার জন্য আলাদা করে ২০ লাখ ডলার রাখার কথা বলেছিল—যা তার কাছে আজও বিস্ময়কর।  মোট মিলিয়ে তিনি দফায় দফায় প্রায় ২৫ লাখ ডলার পেয়েছিলেন।  এই অর্থেই তিনি বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন, নতুন জাগুয়ার গাড়ি কেনেন, বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সাড়ে পাঁচ লাখ ডলারের একটি বাড়ি কেনেন।  অথচ তার বার্ষিক বেতন কখনোই ৭০ হাজার ডলারের বেশি ছিল না।কারাগারে এইমসের মৃত্যু এক যুগের অবসান ঘটালেও তার বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষতচিহ্ন আজও মার্কিন গোয়েন্দা ইতিহাসে গভীরভাবে দাগ কাটে। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ পরিণতি হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতার এক দৃষ্টান্ত হিসেবে।এবি 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
কুয়েটের অন্তর্বর্তীকালীন ভিসির পদত্যাগ
কুয়েটের অন্তর্বর্তীকালীন ভিসির পদত্যাগ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অন্তর্বর্তী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলী পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে Read more

প্রায় আশি বছর আগেকার কলকাতা ও নোয়াখালী দাঙ্গা নিয়ে ভারতে নতুন বিতর্ক
প্রায় আশি বছর আগেকার কলকাতা ও নোয়াখালী দাঙ্গা নিয়ে ভারতে নতুন বিতর্ক

পরিচালক বিবেক অগ্নিগোত্রীর ছবি 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস' ভারতে মুক্তি পাচ্ছে আগামী মাসে। তিনি ছবিটি তৈরিই করেছেন ১৯৪৬ সালে যেভাবে কলকাতার Read more

ফরেস্টকে হারিয়ে রেইন্ডার্স বললেন, ‘উই আর অন হান্ট’
ফরেস্টকে হারিয়ে রেইন্ডার্স বললেন, ‘উই আর অন হান্ট’

২০২৫-২৬ মৌসুমের শুরুটা মোটেও প্রত্যাশা মতো হয়নি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চেনা রূপেই ফিরেছে পেপ Read more

জাবিতে র‌্যাগিংয়ের দায়ে বহিষ্কার ১৬ শিক্ষার্থী
জাবিতে র‌্যাগিংয়ের দায়ে বহিষ্কার ১৬ শিক্ষার্থী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২১নং ছাত্র হলের একটি কক্ষে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ৫৪ ব্যাচের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের) শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় Read more

সৎভাবে কাজ করছি, ব্যর্থ হলে সরে যাবো: সালাহউদ্দিন
সৎভাবে কাজ করছি, ব্যর্থ হলে সরে যাবো: সালাহউদ্দিন

জাতীয় দলে সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। পাশাপাশি জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বও আংশিকভাবে পালন করে Read more

ইসরায়েলিরা যা যা করেছে সব ফাঁস করলেন গ্রেটা থুনবার্গ
ইসরায়েলিরা যা যা করেছে সব ফাঁস করলেন গ্রেটা থুনবার্গ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের অবৈধ নৌ অবরোধ ভাঙা ও সাধারণ মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে সমুদ্রপথে গাজার দিকে রওনা Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন