মেহেরপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চত্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ভেতর চ্যালেঞ্জ দিয়ে দিবালোকে বসে চিকিৎসা চালাচ্ছেন এক কবিরাজ। একটি চার রঙের ভিজিটিং কার্ডে পরিচয় দেওয়া ‘স্বপন কবিরাজ’ আসাম, কামরূপ কামাক্ষা মায়াং থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এই ব্যক্তি সাভার থেকে এসেছেন বলে দাবি করেন এবং তার ভাষ্যমতে, তিনি বশিকরণ, বন্ধ্যত্ব, দাম্পত্য সমস্যা, এমনকি সব ধরনের শারীরিক রোগের চিকিৎসা করাতে সক্ষম।হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে একটি পাটি বিছিয়ে আসন গেড়ে বসে আছেন স্বপন কবিরাজ। চারপাশে রাখা বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছড়া, সাপের মমি, কিছু রঙিন বোতল, তাবিজ-কবচ, নানা রকমের তেল, নানান ধরনের দৃষ্টিকাড়া গাছ, লাল কাপড়ে মোড়ানো কাগজপত্র, ও হস্তলিখিত একটি পোস্টার- যেখানে লেখা, ‘১০০% গ্যারান্টিসহ বশিকরণ ও প্রেমের মিলন, বন্ধ্যা নারীর সন্তান লাভ, স্বামীকে বশ করা, হারানো প্রেম ফিরে পাওয়া, সব ধরনের জটিল রোগের সমাধান।’চিকিৎসা নিতে আসা দিনিয়া খাতুন নামের এক নারী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শরীরের নানা সমস্যায় ভুগছেন। ডাক্তার অনেক ওষুধ দিয়েছে, কিছুতেই আরাম পাইনি। এই কবিরাজ ভালো করেন শুনে এসেছি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, ‘বউয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না, তাই এই কবিরাজ বলেছেন তালমাখনা ওষুধ তৈরি করে দেবেন, সঙ্গে তাবিজ দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’ তিনি ওষুধের পাশাপাশি পানি বেশি খাবার পরামর্শ দিয়েছেন। রাতে দুশ্চিন্তা করতেও বারণ করেছেন। ৭শ’ টাকায় এক সপ্তাহের ওষুধ দিয়েছেন ওই যুবককে।এমন এক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কবিরাজি চিকিৎসা চলছে যেখানে শিক্ষিত চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত, সেখানে কীভাবে একজন কবিরাজ প্রকাশ্যে ও দীর্ঘ সময় ধরে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাঝে মাঝে তুলে দিই, আবার এসে বসে পড়েন। কেউ একজন তাদের সুবিধা করে দিচ্ছে কিনা সেটাও প্রশ্ন।’ তিনি আরও জানান, ‘এগুলো পুরোপুরি অবৈধ।’বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালাতেও বলা আছে, সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের চত্বরে অনুমতি ছাড়া কোনো বেসরকারি কার্যক্রম চালানো যাবে না।মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শাহরিয়া শায়লা জাহান বলেন, ‘এ ধরনের কবিরাজি চিকিৎসা কেবল ভুয়া নয়, মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। রোগ নির্ণয় ছাড়াই ওষুধ বা তাবিজ দেওয়া মানে সরাসরি প্রতারণা। বিশেষ করে বশিকরণ বা সম্পর্কভিত্তিক সমস্যায় তাবিজ ব্যবহার, এটা মানুষকে ভুল বোঝায় এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সচেতন না করতে পারছি, ততক্ষণ এসব বন্ধ করা কঠিন হবে। কিন্তু সরকারিভাবে তো অন্তত হাসপাতালের চত্বরে এসব বন্ধ হওয়া উচিত। এসব প্রতারক কবিরাজদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত প্রশাসনের।’এনআই

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
৬ দফা দাবি না মানায় বাকৃবিতে রেললাইন অবরোধ
৬ দফা দাবি না মানায় বাকৃবিতে রেললাইন অবরোধ

স্নাতক কৃষিবিদদের পেশাগত অধিকার রক্ষা ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃ‌বি) কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার (১৩ Read more

রোমের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
রোমের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতালির রোমের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আজ রবিবার (১২ অক্টোবর) Read more

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাজেট অনুমোদন
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাজেট অনুমোদন

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।রবিবার (২২ জুন) প্রধান উপদেষ্টা Read more

মার্কিন শুল্ক আমাদের ‘বড় ঝুঁকিতে’ ফেলতে যাচ্ছে: ফখরুল
মার্কিন শুল্ক আমাদের ‘বড় ঝুঁকিতে’ ফেলতে যাচ্ছে: ফখরুল

মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক বাংলাদেশকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে যাচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২৬ Read more

বাহরাইন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে দু‌টি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা
বাহরাইন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে দু‌টি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা

বাহরাইনে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দুটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাহরাই‌নের স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ মার্চ) মানামার বাংলাদেশ দূতাবাস Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন