আজ ২৬ জুন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘দ্য এভিডেন্স ইজ ক্লিয়ার: ইনভেস্ট ইন প্রিভেনশন। ব্রেক দ্য সাইকেল। স্টপ অর্গানাইজড ক্রাইম।’ মানে হলো, ‘প্রমাণ স্পষ্ট, প্রতিরোধে বিনিয়োগ করুন। চক্র ভেঙে ফেলুন। সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন করুন।’জানা গেছে, প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে বর্তমানে নিয়োজিত রয়েছে ২ হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে এনফোর্সমেন্টে নিয়োজিত রয়েছেন ১ হাজার ৬২২ জন। ৬৪টি জেলা কার্যালয়, ১টি বিশেষ জোন, ৮টি বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় এবং ৮টি বিভাগীয় কার্যালয়ের সহযোগিতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।অধিদপ্তর সূত্র মতে, সমীক্ষায় দেশের ৮ বিভাগের ১৬টি জেলা থেকে ৫ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে মাদকাসক্তির হিসাব তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গবেষকেরা স্বীকৃত গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, দেশে প্রাক্কলিত মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৮৩ লাখ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জনসংখ্যা ধরা হয়েছে সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা শুমারি অনুযায়ী ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার।মাদকবিষয়ক প্রতিবেদনে দেশের ৪টি অঞ্চলের ১০৪টি ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের ৮ জেলার ৪৩টি, পূর্বাঞ্চলের ৪ জেলার ২১টি, উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলার ২১টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের ১৯টি ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।কোন মাদকে কত আসক্তমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমীক্ষা অনুযায়ী, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৭৭ লাখ ৬০ হাজার এবং নারী ২ লাখ ৮৫ হাজার। এর বাইরে ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু-কিশোর মাদকে আসক্ত।মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ গাঁজায় (প্রায় ৫২ শতাংশ), ২৩ লাখ ইয়াবায় (প্রায় ২০ শতাংশ) ও ২০ লাখ ২৪ হাজার মদ্যপানে (১৭ শতাংশ) আসক্ত। ৩ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদকে এবং ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ হেরোইনে আসক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, তিন লাখের মতো মানুষ ঘুমের ওষুধ মাদক হিসেবে গ্রহণ করেন। ড্যান্ডির মতো আঠাকে মাদক হিসেবে ব্যবহার করেন ১ লাখ ৬০ হাজারের মতো মানুষ। শিরায় মাদক গ্রহণ করেন প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ।সব মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১ কোটি ১৭ লাখের মতো। তবে একই ব্যক্তি একাধিক মাদকে আসক্ত। সেটা বিবেচনায় নিয়ে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। ফলে মোট মাদকাসক্ত দাঁড়িয়েছে ৮৩ লাখ।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৬৯৮টি মাদক মামলার রায় হয়েছে, তার মধ্যে ৫৫ শতাংশ মামলায় সব আসামি খালাস পেয়েছেন। ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার একটা প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এখন আর মাদক বহনকারীকে ধরে লাভ নেই। ধরতে হবে গডফাদারদের।যাঁরা মাদকাসক্ত, তাঁদের মধ্যে বড় অংশই তরুণ-যুবক। ফলে চিকিৎসার মাধ্যমে এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মাদকের কারণে প্রতিবছর পাচার হয়ে যায় ৪৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা)। আর মাদক কেনাবেচা করে অর্থ পাচারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম।মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রয়োজন। তবে দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রসহ চার বিভাগীয় শহরের চারটিতে একসঙ্গে মাত্র ১৯৯ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে ৫০টি শয্যা এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালে ৩০টি শয্যা রাখা হয়েছে মাদকাসক্তিজনিত বিষয়ে মানসিক রোগীর জন্য। অর্থাৎ সরকারি পর্যায়ে মাত্র ২৭৯ জন রোগীকে ভর্তি করে একসঙ্গে সেবা দেওয়া যায়।অবশ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে বেসরকারি পর্যায়ে ৩৮৭টি মাদক নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। নতুন করে সরকারিভাবে ঢাকায় ২৫০ শয্যার এবং দেশের বাকি ৭টি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আরও ৭ পূর্ণাঙ্গ মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মনোরোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আহমেদ হেলাল প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা মাদকাসক্ত, তাঁদের মধ্যে বড় অংশই তরুণ-যুবক। ফলে চিকিৎসার মাধ্যমে এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। সারা দেশে মাদক নিরাময় কেন্দ্র এবং পুনর্বাসনকেন্দ্র তৈরি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের যদি পুনর্বাসন করা না যায়, তবে তাঁরা সমাজের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবেন।মাদক পরিবারকে ধ্বংস করে: মাদকাসক্ত একজন তরুণ একটি পরিবারের ওপর কী প্রভাব ফেলে। মাদকাসক্তির কারণে পড়াশোনা শেষ করতে পারে না অনেকেই। মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া পরেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে না। ফলে সামাজিকভাবে হেয় হতে হয় পরিবারকে। একটি পরিবারকে ধ্বংস করতে মাদকই যথেষ্ট।এসকে/এইচএ

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
আনোয়ারায় পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু
আনোয়ারায় পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পানিতে ডুবে মো. ইয়াসিন (৮) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে Read more

কক্সবাজারে জ্বালানি অচলাবস্থা, গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত
কক্সবাজারে জ্বালানি অচলাবস্থা, গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

পর্যটন শহর কক্সবাজারে হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করেছে এলপিজি অটোগ্যাসের সংকট। এতে জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে Read more

জীবননগর পুলিশের অভিযানে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার
জীবননগর পুলিশের অভিযানে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে ২ কেজি গাঁজা ও একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করেছে জীবননগর থানা পুলিশ। পলাতক মাদক Read more

মালয়েশিয়ায় ভিসাধারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শক্ত বার্তা
মালয়েশিয়ায় ভিসাধারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শক্ত বার্তা

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ভিসাধারীদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসিউন ইসমাইল। তিনি বলেছেন, 'আইন ভঙ্গকারী যেই হোক না Read more

চীনা ‘কোভিড হুইসেলব্লোয়ারকে’ আবারও ৪ বছরের কারাদণ্ড
চীনা ‘কোভিড হুইসেলব্লোয়ারকে’ আবারও ৪ বছরের কারাদণ্ড

কোভিড-১৯ এর শুরুর দিকে মহামারীর কেন্দ্রের প্রথম দিককার পরিস্থিতি তুলে ধরার পর ৪ বছর জেল খাটা চীনা এক সাংবাদিক একই Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন