মিয়ানমারের জান্তা সরকার এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সশস্ত্র সংঘাতের কারণে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে পালিয়ে আসা ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইউনাইটেড নেশনন্স রিফিউজি এজেন্সি (ইউএনএইচসিআর)। গত সোমবার (২৮ এপ্রিল) এই অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত সরকারি সংস্থা রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপ্যাট্রিশন কমিশনের কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা আনাদোলুকে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, “গত সপ্তাহে আমাদের চিঠি দিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সেখানে মিয়ানমার থেকে উচ্ছেদ হয়ে বাংলাদেশে আসা নতুন প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।”মিজানুর রহমান জানান, নতুন এই রোহিঙ্গাদের অনেকে বর্তমানে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের আশেপাশে তাঁবু গেড়ে বসবাস করছেন। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন স্কুল এবং মসজিদে।বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, নতুন এই ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা ২৯ হাজার ৬০৭টি পরিবারের সদস্য। এই পরিবারগুলোর মধ্যে শুধ গত সপ্তাহেই এসেছে ১ হাজার ৪৪৮টি পরিবার। এদের প্রায় সবাই রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা এবং নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে এসেছেন।“ইউএনএইচিসিআর নতুন আগত রোহিঙ্গাদের সবাইকে শিবিরে আশ্রয় দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে, তবে আমরা এখনও কোনো উত্তর দিইনি। কারণ আমাদের আশঙ্কা, এভাবে ক্রমাগত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে থাকলে ফের পুনর্বাসনের জন্য তাদের মিয়ানমারে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠবে,” আনাদোলুকে বলেন মিজানুর রহমান।২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বেশ কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে একযোগে বোমা হামলা ঘটায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। সেই হামলার প্রতিক্রিয়ায় আরাকানের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভয়াবহ হামলা শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।সেনা সদস্যদের নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মুখে টিকতে না পেরে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে কক্সবাজারের টেকনাফ জেলার কুতুপালংয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান শুরু হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই চলে আসছে। বর্তমানে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন ১৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।এদিকে গত প্রায় এক বছর ধরে রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘাত চলছে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির। বর্তমানে রাজধানী সিতওয়ে ব্যতীত রাজ্যের সমস্ত এলাকা, এমনকি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তও রয়েছে তাদের দখলে। ফলে ফের আরেকবার বাংলাদেশে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ঢল আসার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।এবি 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
হাইকোর্টের বিচারপতি হলেন সারজিস আলমের শ্বশুর লুৎফর রহমান
হাইকোর্টের বিচারপতি হলেন সারজিস আলমের শ্বশুর লুৎফর রহমান

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২৫ জনকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমের Read more

কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের হামলায় ৫২ জন নিহত
কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের হামলায় ৫২ জন নিহত

ডিআর কঙ্গোতে চলতি মাসে আইএসআইএল সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।  দেশটিতে অবস্থিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন Read more

৪ বছরের সম্পর্ক ভেঙে গেছে, কাঁদছেন অভিনেত্রী সামিরা মাহি
৪ বছরের সম্পর্ক ভেঙে গেছে, কাঁদছেন অভিনেত্রী সামিরা মাহি

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহির দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেছে। বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন তিনি। প্রেমিক সাদাত শাফি Read more

সব ভুলে শেখ হাসিনার মুক্তি চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া
সব ভুলে শেখ হাসিনার মুক্তি চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চার দশকেরও বেশি সময়ের 'প্রবল প্রতিপক্ষ' হিসেবেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও এখনকার অন্তর্বর্তী Read more

বিদ্যালয় ভবনে গোয়াল ঘর! পাঠদান ব্যাহত
বিদ্যালয় ভবনে গোয়াল ঘর! পাঠদান ব্যাহত

বরগুনার আমতলী উপজেলার পশ্চিম সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে গোয়াল ঘর তৈরি করে গরু-মহিষ লালন পালন করা হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের Read more

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল দেশ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল দেশ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে উত্তাল হয়েছে সারা দেশ। পাহাড় থেকে সমতল হাদির Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন