সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছে হামে আক্রান্ত শিশুরা। সংক্রামক এই রোগ মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে।হাম কেবল সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ি নয়; এটি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ (যা থেকে বধিরতা হতে পারে) এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে হাম থেকে। সঠিক সময়ে টিকা নিলে এসব প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকে প্রায় শতভাগ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।সরকারি টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই (EPI) ছাড়াও আপনার শিশুকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে টিকা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনেক অভিভাবকই বিভিন্ন কারণে সরকারি কেন্দ্রগুলোতে যেতে পারেন না, তাদের জন্য বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলো একটি সহজ বিকল্প হতে পারে।শিশুর হাম হলে অভিভাবকরা যা করবেনঅভিভাবকের করণীয় কী হতে পারে, বিষয়টি নিয়ে এই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, কোনো শিশুর জ্বর এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে।এ সময় আক্রান্ত শিশুর খাবার, পানীয় ও অন্যান্য স্বাভাবিক পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকসহ তাকে পরপর দুই দিন দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল বয়স অনুযায়ী সঠিক ডোজে খাওয়াতে হবে।কোনো শিশুর জ্বর এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।হামে আক্রান্ত শিশুর যদি কোনো বিপদচিহ্ন, যেমন শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি বা নিস্তেজ হয়ে পড়া, চোখের মণি ঘোলা হয়ে আসে বা মুখের ভেতর গভীর ঘা থাকে, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে। সেখানে শিশুকে আলাদা ওয়ার্ডে বা কেবিনে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে।যদি হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর দৃষ্টি সমস্যা বা দেখতে অসুবিধা হয়, কিংবা চোখের মণি ঘোলা লাগে, তাহলে ১৪ দিনের মাথায় আরও একটা ভিটামিন এ ক্যাপসুল (মোট ৩টি) দিতে হবে।আরএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
