মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি সহায়তা স্থগিত করা এবং ইউএসএইড সংস্থাটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত উন্নয়ন খাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আফ্রিকায় দেয়া হয়, যা স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে শিক্ষা ও পয়ঃপ্রণালীসহ বিভিন্ন খাতে খরচ হয়।কিন্তু যখন পশ্চিমা সহায়তা সংস্থাগুলো বিপদের ঘণ্টা বাজাচ্ছে এবং সরকারি কর্মকর্তারা স্থগিত প্রকল্পগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন আমরা বৃহত্তর ছবিটি দেখতে ভুল করছি। আফ্রিকার বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা একটি পছন্দ, কোনো অপরিহার্যতা নয়। আমাদের মহাদেশে এমন সব দুর্লভ খনিজের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যেগুলো আগামী দিনের প্রযুক্তি ও জ্বালানিতে চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে। তবুও আমরা অহেতুক সহায়তা নির্ভরতার চক্রে বন্দী হয়ে আছি। এখনই সময় সব পাল্টে দেয়ার।যেসব কিছু ঝুঁকিতে আছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা দরকার। ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) বিশ্বে ব্যবহৃত মোট কোবাল্টের ৭০ শতাংশ সরবরাহ করে-যা বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ব্যাটারি তৈরিতে একটি অপরিহার্য উপাদান। বিশ্বে ব্যবহৃত প্ল্যাটিনামের ৭৫ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের ৫০ শতাংশ এককভাবে উৎপাদন করে সাউথ আফ্রিকা। মোজাম্বিক ও মাদাগাস্কারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রাফাইটের ভাণ্ডার রয়েছে। জিম্বাবুয়েতে রয়েছে জিপিএস ও ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ধাতু সিজিয়ামের সবচেয়ে বড় মজুদ।এগুলো শুধু শিলা বা ধাতু নয় বরং বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সফলতা অর্জনে মূল চাবিকাঠি। প্রতিটি বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), সৌর প্যানেল এবং উইন্ড টারবাইনের পিছনে যে খনিজগুলো দরকার সেই সব খনিজের প্রাচুর্য রয়েছে শুধুমাত্র আফ্রিকা মহাদেশ।তবুও, আমরা এখনো উপনিবেশিক শাসনামলের মতো কাঁচামাল রপ্তানি করছি, আর সেই দেশগুলোর কাছ থেকেই সহায়তা চাইছি যারা আমাদের সম্পদ থেকেই লাভবান হচ্ছে।চিত্রটা বেদনাদায়ক: আমরা কাঁচামাল হিসেবে কোবাল্ট বিক্রি করছি প্রতি কেজি ২৬-৩০ ডলারে, যেখানে ব্যাটারি তৈরিটা উপযুক্ত প্রক্রিয়াজাত কোবাল্ট বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫০-২০০ ডলারে। অর্থাৎ, আমরা প্রকৃত মূল্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি বঞ্চিত হচ্ছি বিদেশি প্রক্রিয়াজাতকারী ও নির্মাতাদের কারণে। এটা কেবল অলাভজনক এবং বাজে ব্যবসাই নয়—এটা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পথে আত্মঘাতী।শুধু ব্যাটারির বাজারই ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত দ্রুত গতিতে বাড়ছে, যেখানে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন প্রতিবছর ২৬ শতাংশ হারে বাড়ছে।স্পষ্টতই, আফ্রিকার খনিজ সম্পদ আমাদের প্রজন্মের জন্য বৃহত্তম অর্থনৈতিক সুযোগ। কিন্তু সেই মূল্য ধরার পরিবর্তে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি স্থগিত হওয়া সহায়তার ঘাটতি পূরণ নিয়ে আলোচনা করতে।সমালোচকরা বলবেন, আমরা এখনো এসব খনিজ নিজেরাই প্রক্রিয়াকরণে যথাযথ অবকাঠামো, দক্ষতা এবং মূলধন অর্জন করতে পারি নাই। তবে এটাও সত্য এমন শিল্প গড়ে তোলার মতো প্রস্তুতি আমাদের নেই।তারা সঠিক অবস্থানে রয়েছে, তবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত। কিন্তু এটাই সেই জায়গা যেখানে আমাদের সম্পদ বিনিয়োগ করতে হবে, আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা একীভূত করতে হবে। চীন বহু আগেই তা বুঝেছিল এবং তারা আফ্রিকাজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ লাইনে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তারা আমাদের খনিজের অভাবনীয় সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ  অনুধাবন করতে পারেছিল, যখন আমরা ত্রাণ-সহায়তা পেতে আবেদনপত্র পূরণে ব্যস্ত ছিলাম।সমাধান জটিল নয়, তবে এটি চ্যালেঞ্জিং: শুধু খনন আর খনির ক্ষেত্র করে রাখলেই হবে না, আমাদের দরকার প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা। এমন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে যেখানে খনিজ সম্পদের মানোন্নয়ন হবে, কেবল রপ্তানির জন্য টার্মিনাল নয়। দরকার গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র—যেখানে নতুন প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের আঞ্চলিকভাবে চিন্তা ও কাজ করতে হবে।ভাবুন, একটি ‘দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকান ব্যাটারি উপাদান উদ্যোগ’ যেখানে অঞ্চলভিত্তিক দেশগুলো সম্পদ ও দক্ষতা একত্রিত করে একটি সমন্বিত মূল্য নির্ধারণ করবে। ভাবুন, ‘পূর্ব আফ্রিকান রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট সহযোগিতা কাঠামো’, যা আমাদের খনিজ সম্পদকে উচ্চ-প্রযুক্তি উৎপাদনে রূপান্তর করছে। এগুলো অলীক কল্পনা নয়—এসব সুযোগ প্রতিনিয়ত আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।পরিবেশবিদরা বলবেন, খনন প্রক্রিয়া নোংরা ও পরিবেশের জন্য ধ্বংসাত্মক।তারা ঝুঁকি নিয়ে ভুল বলছেন না, তবে সমাধান নিয়ে ভুল করছেন। আমাদের দুর্লভ খনিজ মাটির নিচে রেখে দেয়াই সমাধান নয়, বরং আমাদেরই উচ্চমানের টেকসই খনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নীতি তৈরি করা উচিত। আমরা এমন শিল্প গড়ে তুলতে পারি-যা পরিবেশ রক্ষা করে এবং স্থানীয় জনগণের উপকারে আসে। আমাদের অবশ্যই তা করতে হবে। তা না করতে পারলে বিকল্প হিসেবে যা করতে হবে তা হলো, বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে সব করবে, আর ক্ষতিটা আমাদেরই সামাল দিতে হবে।এবি 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
২৬ সেপ্টেম্বর: নামাজের সময়সূচি
২৬ সেপ্টেম্বর: নামাজের সময়সূচি

আজ শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, ১১ আশ্বিন ১৪৩২ বাংলা, ৩ রবিউস সানি ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার Read more

বাঘায় রিকশাচালকের ছেলে রতন স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
বাঘায় রিকশাচালকের ছেলে রতন স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের এক গর্বিত মুখ এখন অর্ণব হাসান রতন। ৪৮তম বিসিএস পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। Read more

চকরিয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
চকরিয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ মে) সকাল ১১টার সময় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর Read more

শুল্ক ইস্যুতে আলোচনা করতে ঢাকায় আসছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদল
শুল্ক ইস্যুতে আলোচনা করতে ঢাকায় আসছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদল

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চ ৩ দিনের সফরে রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় Read more

রংপুরে মদপানে ৩ জনের মৃত্যু
রংপুরে মদপানে ৩ জনের মৃত্যু

রংপুরের বদরগঞ্জে মদপানে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ২ জন।সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত Read more

কিশোরগঞ্জ জেলাকে ঢাকা বিভাগে রাখার দাবি
কিশোরগঞ্জ জেলাকে ঢাকা বিভাগে রাখার দাবি

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত বিভাগীয় প্রশাসনিক মানচিত্রে কিশোরগঞ্জ জেলাকে ঢাকা বিভাগ থেকে প্রতিস্থাপন করে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবনা প্রত্যাখ্যান Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন